শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৯:১৬ পিএম, ২০২৬-০৯-২১
কক্সবাজারের ঝিলংজা মৌজায় চলমান বিডিএস জরিপের তসদিক কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে নানা অভিযোগ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সরেজমিন চিত্রে এর সঙ্গে কক্সবাজার দিয়ারা সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাস্তব কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য অমিল পাওয়া গেছে। ভূমি মালিকদের অভিযোগ, জরিপ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে না পেরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ ভূমি মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে।
তবে ঝিলংজা মৌজার একাধিক ভূমি মালিকের দাবি, বৈধ কাগজপত্র নিয়ে দিয়ারা সেটেলমেন্ট ক্যাম্পে গেলে তসদিক, খতিয়ান সত্যায়ন এবং ‘ডিস্পোর্ট’ বা আপত্তি-সংক্রান্ত শুনানির কাজ নিয়ম অনুযায়ী করা যাচ্ছে। এজন্য বাড়তি তদবির কিংবা টাকা-পয়সা দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তারা।
ভূমি মালিকদের ভাষ্য, আগে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে দালালনির্ভরতার অভিযোগ থাকলেও বর্তমান তসদিক কার্যক্রমে সরাসরি ভূমি মালিক ও বৈধ প্রতিনিধিদের উপস্থিতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকৃত মালিকরা নিজেরাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে গিয়ে সেবা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সরেজমিনে দিয়ারা সেটেলমেন্ট ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আসা ভূমি মালিকরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তাদের খতিয়ান ও জমির কাগজপত্র উপস্থাপন করছেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নিয়ম অনুযায়ী তসদিক ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভূমি মালিকদের মধ্যে সন্তোষও দেখা গেছে।
দালালনির্ভরতা বন্ধ হওয়ায় ক্ষুব্ধ একটি মহল?
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, চলমান তসদিক কার্যক্রমে অফিসের ভেতরে-বাইরে দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মতিউর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর সরাসরি ভূমি মালিকদের সেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি অংশ অসন্তুষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভূমি মালিকদের কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠজন কিংবা বিভিন্ন পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ জরিপ কার্যক্রমে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রত্যাশিত সুবিধা না পেয়ে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সাধারণ ভূমি মালিকদের বিভ্রান্ত করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
অপপ্রচারে তসদিক বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রকৃত মালিকরা:
ঝিলংজা মৌজার ভূমি মালিকদের আশঙ্কা, ভিত্তিহীন অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার কারণে যদি কোনোভাবে চলমান তসদিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভূমি মালিকরা।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ হলে জমির মালিকানা ও রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতা কমবে। তাই কোনো ব্যক্তির স্বার্থে কিংবা দালালনির্ভর ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে গিয়ে যেন পুরো জরিপ কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বৈধ কাগজপত্রই সেবার মূল ভিত্তিঃ
ভূমি মালিকদের ভাষ্য, তসদিক কার্যক্রমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জমির বৈধ কাগজপত্র। দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি অফিসে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
ভূমি মালিক লার পাড়ার জয়নাল আবেদীন বলেন- আমরা চাই নিজের জমির কাজ নিজেরাই করতে। বৈধ কাগজপত্র নিয়ে অফিসে গেলে যদি নিয়ম অনুযায়ী সেবা পাওয়া যায়, তাহলে দালালের প্রয়োজন কী? এখন সরাসরি গিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকায় আমরা স্বস্তিতে আছি।
আরেক ভূমি মালিক টেকপাড়ার নুরুচ্ছফি সাগরের বলেন, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা কথা শুনে প্রথমে আমরা চিন্তিত হয়েছিলাম। কিন্তু সরেজমিনে এসে দেখি, কাগজপত্র ঠিক থাকলে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে না। তাই গুজবের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত পরিস্থিতি দেখে কথা বলা উচিত।
অভিযোগ ও অপপ্রচার প্রসঙ্গে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মতিউর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যত অপপ্রচারই হোক, দিয়ারা সেটেলমেন্ট ক্যাম্পে কোনো ধরনের দালালি করতে দেওয়া হবে না। ভূমির প্রকৃত মালিক যেন নিজের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে নিজেই খতিয়ান সত্যায়ন ও ডিস্পোর্ট শুনানির কাজ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে, বৈধ ভূমি মালিক বা তার বৈধভাবে মনোনীত ব্যক্তি ছাড়া কারও মাধ্যমে খতিয়ান সত্যায়ন বা ডিস্পোর্ট শুনানির কার্যক্রম না করতে। চলমান বিডিএস জরিপে কোনো দালাল যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে জরিপ কর্মকর্তারা সতর্ক রয়েছেন।
ভূমি মালিকদের মতে, বিডিএস জরিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমি মালিকদের সেবা নিশ্চিত করা এবং দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।
তাদের দাবি, চলমান তসদিক কার্যক্রম যেন কোনো অপপ্রচার বা স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত অভিযোগ থাকলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ঝিলংজার ভূমি মালিকদের প্রত্যাশা—দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিডিএস জরিপের তসদিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে এবং প্রকৃত মালিকরা নিজের জমির রেকর্ড নিজেরাই বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
খবর বিজ্ঞপ্তি : চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন, সর্পদংশনে মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদী অ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে সাদিজ শাহরিয়ার সানম (২৪) নামে এক কলেজছাত্রের মৃ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : ‘বাংলার কাশ্মীর’খ্যাত পার্বত্য রাঙামাটির পাহাড়, হ্রদ আর ঝরনার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে দিন দি...বিস্তারিত
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : : বান্দরবান জন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক আমাদের চট্টগ্রামের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন লেখক-সাংবাদিক ও সংগঠক আবদুল্লাহ ...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৭ জনকে গ্রেফ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited